বাংলাদেশের রাজনীতিতে জুলাই সনদ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আটটি ইসলামী দল একটি জোট গঠনের পর শরীয়া কায়েমের বিষয়টি সামনে আসে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাজনীতি করলে শরীয়া বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
জোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রয়েছে কি না বা নেতৃত্ব কার হাতে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনায় বলা হচ্ছে, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই রাজনীতি করতে সম্মত হয়েছে। ফলে শরীয়া কায়েমের দাবির সঙ্গে সনদের শর্ত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েই মূল বিতর্ক।
কিছু ইসলামী দল জুলাই সনদের নির্দিষ্ট কিছু ধারার বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ধীরে ধীরে বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আপত্তির কথা শোনা যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, যদি জুলাই সনদ শরীয়ার পূর্ণ প্রতিফলন না ঘটায়, তাহলে একই সঙ্গে সনদ বাস্তবায়ন ও শরীয়া কায়েম করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের প্রশ্ন
- জুলাই সনদ কি শরীয়া আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
- সংবিধান বহাল রেখে শরীয়া কায়েম করা কতটা সম্ভব
- নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে পাঁচ বছরের মেয়াদে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত কি না
- সংবিধান সংশোধনের সুস্পষ্ট রূপরেখা আছে কি না
উদাহরণ হিসেবে অনেকেই হিজবুত তাহরীর এর কথা উল্লেখ করেন, যারা তাদের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানের বিস্তারিত খসড়া প্রকাশ করেছিল। যদিও দলটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ, তবুও শরীয়া বাস্তবায়নের একটি লিখিত রূপরেখা তারা উপস্থাপন করেছিল বলে আলোচনায় উঠে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যে শরীয়া কায়েমের দাবি শোনা গেলেও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। তাই জুলাই সনদ ও শরীয়া বাস্তবায়নের প্রশ্নে ইসলামী দলগুলোর স্পষ্ট পরিকল্পনা ও রূপরেখা সামনে আসা জরুরি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।