ইরানের মানবাধিকার ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ নরগিস মোহাম্মদী ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। Nobel Peace Prize কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানে নারীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানবাধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার জন্য তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তিনি তেহরানের কুখ্যাত Evin Prison কারাগারে বন্দী রয়েছেন। নোবেল কমিটি বলেছে, তার সাহসী সংগ্রাম ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের মূল্য চোকাতে হয়েছে।
বারবার গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ সাজা
নরগিস মোহাম্মদীকে এখন পর্যন্ত ১৩ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচবার দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কারাগারে থেকেও তিনি নিয়মিত বিবৃতি দিয়ে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন।
তার স্বামী ও দুই সন্তান বর্তমানে ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাস করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি কারাগারে সহবন্দীদের সঙ্গে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়।
নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
ইরানে “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই পুরস্কারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নরগিস মোহাম্মদীর এই স্বীকৃতি ইরানের নারীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের বার্তা বহন করে।
তিনি “হোয়াইট টর্চার” নামে একটি বই লিখেছেন, যেখানে নারী বন্দীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। এতে কারাগারে দীর্ঘ একাকী আটক, মানসিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে। আলোচনায় ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক Nazanin Zaghari-Ratcliffe এর মতো বন্দীদের কথাও উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কারাগারে থেকেও নরগিস মোহাম্মদীর এই পুরস্কার প্রাপ্তি ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।